বাসার নিচে, গলির মুখেই মুদি দোকান। রং বেরঙের শ্যাম্পুর পাতা, রোল টানা খাতা, প্যাকেট করা কেক-বিস্কিট, চাল, ডাল, তেল। যা লাগবে সবই আছে দোকানগুলোয়। প্রতিদিন দোকানি ভাইদের সাথে দেখা হয় আমাদের, কথা হয়, আবার হয় বাকীতে কেনাও। ভরসা করে, মাসের শেষে তারা আমাদের সদাই-পাতি দেয়। কিন্তু আমরা কখনো ভেবেছি যে এই মুদি দোকানিরা যে আমাদের প্রতি মাসে দফায় দফায় ধার দেয় তাদের মাসিক রিস্টকিংটা তারা কীভাবে করে? সেটাই জানব আজ।
বাংলাদেশের প্রায় ৫০ লাখ মুদি দোকান যারা দেশের জিডিপির ৩০% অবদান রাখে এবং ৯৭% খুচরা লেনদেন সম্পন্ন করে, তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী? পুঁজির অভাব। ব্যাংক লোন পাওয়া তাদের জন্য স্বপ্ন, আর প্রতিদিন ব্যবসা চালাতে গিয়ে টাকার অভাবে কত সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়!
ঠিক এই সমস্যার সমাধান নিয়ে এগিয়ে এসেছে প্রিয়শপ। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় B2B মার্কেটপ্লেস, যারা এবার তাদের ফিনটেক সেবার মাধ্যমে ছোট ব্যবসায়ীদের জীবনে আনছে নতুন সম্ভাবনা।
প্রিয়শপের ফিনটেক: একটা আশা
২০২৪ এ প্রিয়শপ প্রথম এই ফিন্টাক এর আইডিয়া বাংলাদেশের দোকানিদের জন্য নিয়ে আসে লঙ্কাবাংলা আর মাস্টারকার্ড এর সাথে একত্রে। দোকানে বসেই লোন নেয়ার এই পদক্ষেপটি সর্বপ্রথম প্রিয়শপ আনে। লঙ্কাবাংলার পরে কমিউনিটি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক ও এই পদক্ষেপে আগ্রহ প্রকাশ করে। তারপরে ২০২৫ এ তারাও যুক্ত হয়ে যায়। এর মাধ্যমে এখন হাজারো দোকানি লোন সুবিধা পাচ্ছে একদম দোকানে বসেই। আর পূরণ করছে তাদের অনেক আশা যেটা তারা ভেবেছিলো কখনো পূরণ হবেই না।
ফিনটেক এর এই সুবিধাতে মুদি দোকানিরা আর্থিক ভাবে কী কী পাবে?
– ফর্মাল লোনের জন্য খুব সহজেই এপ্লাই করতে পারবে
– দোকানিদের পার্সোনাল প্রোফাইল এর উপর নির্ভর করে লোন দেয়া হবে
– দক্ষ সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্সিং যার মানে হলো দোকানে বসেই সুবিধাজনক অবস্থাতে রিস্টকিং করতে পারবে লোন এর মাধ্যমে
কী কী সেবা পাবেন ব্যবসায়ীরা?
১. বাই নাউ পে লেটার (BNPL) সুবিধা
প্রিয়শপে আগে থেকেই বাই নাউ পে লেটারের সুবিধা চালু ছিল, যা দোকানিদের আর্থিক সমস্যা কিছুটা হলেও রোধ করেছে। এতে তাদের ক্রয় ক্ষমতা স্থিতিশীল ও নিশ্চিত হয়েছে।
দোকানে স্টক শেষ আর হাতে নগদ টাকা নেই? চিন্তা নেই। প্রিয়শপে পণ্য অর্ডার করুন, বিক্রি করুন আর তারপরে যেয়ে প্রিয়শপকে পে করুন। ঠিক এতটাই সহজ।
২. সিএমএসএমই ক্রেডিট কার্ড, দেশের সর্বপ্রথম!
লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স পিএলসি এবং মাস্টারকার্ডের সাথে অংশীদারিত্বে প্রিয়শপ চালু করেছে দেশের প্রথম সিএমএসএমই ক্রেডিট কার্ড।
ছোট ব্যবসায়ীরা এখন ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে তাদের ব্যবসায়িক খরচ পরিচালনা করতে পারবেন। এটি শুধু একটি কার্ড নয়, এটি আর্থিক স্বাধীনতা!
৩. কাগজবিহীন সহজ প্রক্রিয়া
ব্যাংকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার দরকার নেই। সহজ কাগজবিহীন প্রক্রিয়া এবং নমনীয় ক্রেডিট অপশন দিয়ে প্রিয়শপ এর মাধ্যমে বানিয়েছে সবকিছু ডিজিটাল এবং দ্রুত।
কেন প্রিয়শপের ফিনটেক আলাদা?
এক নম্বর: তারা বোঝে ছোট ব্যবসায়ীদের আসল সমস্যা
বাংলাদেশে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের (এমএসএমই) সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঋণ পাওয়া। ব্যাংক থেকে লোন নিতে গেলে জটিল প্রক্রিয়া, কাগজপত্রের ঝামেলা, আর দীর্ঘ অপেক্ষা। অনেক সময় ছোট ব্যবসায়ীদের কাছে জামানত বা ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকায় তারা ঋণই পান না।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে এমএসএমই’দের জন্য ক্রেডিট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে বিশাল ৩.৫ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল ফাঁকটাই প্রিয়শপ পূরণ করতে চায়। তারা তথ্য-ভিত্তিক ক্রেডিট স্কোরিং ব্যবহার করে সেই সব ব্যবসায়ীদেরও ঋণ দিতে পারে, যারা ব্যাংক থেকে পান না। প্রিয়শপের মডেল এই ঘাটতি অর্থপূর্ণভাবে কমানোর সম্ভাবনা রাখে।
দুই নম্বর: সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেম
অন্যান্য ফিনটেক কোম্পানি শুধু লোন দেয়, কিন্তু প্রিয়শপ আলাদা। তারা শুধু টাকা ধার দিয়েই ক্ষান্ত থাকে না বরং একটি সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক সমাধান দেয়। প্রিয়শপের প্ল্যাটফর্ম এমএসএমই’দের জন্য একটি নিখুঁত ইকোসিস্টেম তৈরি করছে, যেখানে দোকানিরা পান সহজে পণ্য সংগ্রহ করার সুবিধা, দ্রুত ও সহজ ঋণ সুবিধা, স্টক ও ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট, ব্যবসায়িক তথ্যের ভিত্তিতে ক্রেডিট স্কোর তৈরি।
মানে, একজন দোকানি শুধু লোন পাবেন না, তিনি পাবেন তার পুরো ব্যবসা সহজভাবে পরিচালনার সব সুবিধা এক জায়গায়!
তিন নম্বর: প্রমাণিত ফলাফল
অনেক কোম্পানি বড় বড় কথা বলে, কিন্তু বাস্তবে কতটুকু কাজ হয়? প্রিয়শপের ক্ষেত্রে সংখ্যা নিজেই কথা বলে।
প্রিয়শপের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারী এমএসএমই’রা গড়ে ২০% রাজস্ব বৃদ্ধি দেখছেন। এর মানে, তারা শুধু ঋণ পাচ্ছেন না, বরং সেই ঋণ কাজে লাগিয়ে তাদের ব্যবসা আসলেই বাড়ছে। বিক্রয় বাড়ছে, লাভ বাড়ছে, আর তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে। মানে একদম বাস্তব ফলাফল!
একটি সফলতার গল্প
প্রিয়শপ মে ২০২৫ সালে অপারেশনাল লাভজনকতা অর্জন করেছে, যা তাদের দেশের খুচরা সাপ্লাই চেইন রূপান্তর এবং সুবিধাবঞ্চিত এমএসএমই’দের ক্ষমতায়নের মিশনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে ১০১ থানা এবং ১৩০৮ টি ডেলিভারি রুটে ১,৫১,০০০’র অধিক সক্রিয় খুচরা বিক্রেতাকে সেবা দিচ্ছে।
একটা বিপ্লব শুরু হয়েছে
বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ ছোট ব্যবসায়ী যারা দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড, তাদের জন্য প্রিয়শপের ফিনটেক সেবা শুধু একটা সুবিধা নয়, এটা তাদের জন্য জীবনকে সহজ করার জন্য সবচেয়ে ভালো পন্থা।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দরজা যেখানে বন্ধ ছিল, সেখানে প্রিয়শপ খুলে দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনার জানালা। কাগজবিহীন, দ্রুত এবং বিশ্বস্ত, এই তিনটি শব্দেই সংজ্ঞায়িত হয় প্রিয়শপের ফিনটেক বিপ্লব।
আপনি কি একজন ছোট ব্যবসায়ী? তাহলে এখনই সময় প্রিয়শপের সাথে যুক্ত হওয়ার। আপনার স্বপ্ন পূরণের জন্য এখন আর শুধু পুঁজির অপেক্ষায় থাকতে হবে না, কারণ প্রিয়শপ আছে আপনার পাশে!