জীবনের ৩২টা বছর তিনি কাটিয়েছেন অন্যের মুদি দোকানে কাজ করে। এতগুলো বছরে খুচরা ব্যবসার প্রতিটা দিক তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। কোথা থেকে পণ্য আনতে হয়, কখন কী চাহিদা থাকে, ক্রেতাদের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়, সব পক্রিয়াই তার জানা। প্রতিদিন সকালে দোকান খোলা থেকে শুরু করে রাতে হিসাব মেলানো পর্যন্ত পুরো দায়িত্বই বছরের পর বছর সামলেছেন। কিন্তু নিজের নামে একটা দোকান হবে, এই স্বপ্নটা কখনো ছাড়েননি।

বছরের পর বছর অল্প অল্প করে জমানো সঞ্চয় আর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে অবশেষে তিনি নিজের দোকান শুরু করেন। এটা শুধু একটা নতুন ব্যবসা নয়, বরং বহু বছরের পরিশ্রম, ধৈর্য আর অপেক্ষার ফল।

সোর্সিং নিয়েই ছিল সবচেয়ে বড় চিন্তা

মুদি দোকানে চাকরিকালীন সময়ে তাকে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে পণ্য সোর্সিং। বিভিন্ন বাজার ঘুরে পাইকারি দামে পণ্য কেনা, দাম যাচাই করা, তারপর ভ্যান বা ট্রাকে করে দোকানে আনা, পুরো কাজটাই ছিল সময়সাপেক্ষ আর কষ্টের।

রোদ হোক কিংবা বৃষ্টি, প্রয়োজন হলেই বের হতে হতো। অনেক সময় একটি পণ্যের জন্য দুই-তিনটি বাজার ঘুরতে হয়েছে। কখনো ভালো দামে পণ্য মেলেনি, আবার কখনো বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হয়েছে। এতে শুধু সময়ই নয়, শারীরিক পরিশ্রমও অনেক বেড়ে যেত।

নিজের দোকান শুরু করার সময় তাই এই বিষয়টাই তাকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়েছিল। একা হাতে দোকান চালানোর পাশাপাশি যদি প্রতিদিন একইভাবে বাজারে ছুটতে হয়, তাহলে ব্যবসা সামলানো কঠিন হয়ে যাবে, এই দুশ্চিন্তা সবসময় তার মনে ছিল।


তারপর একটা অ্যাপ বদলে দিলো অভিজ্ঞতা

নিজের দোকান চালানো শুরু করার কিছুদিন পর পরিচিত একজনের মাধ্যমে তিনি প্রিয়শপের কথা জানতে পারেন। শুরুতে বিশ্বাস করতে একটু দ্বিধাই ছিল। বাজারে না গিয়ে শুধু মোবাইল দিয়ে অর্ডার করলে সত্যিই কি পণ্য দোকানে পৌঁছে যাবে?

কৌতূহল থেকেই একদিন প্রথম অর্ডার করেন। নির্ধারিত সময়ে যখন পণ্য দোকানে পৌঁছে যায়, তখন তার ধারণাটাই বদলে যায়।

এখন মুদি দোকানের প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ পণ্যই তিনি এক জায়গা থেকেই অর্ডার করতে পারেন। আগে যেখানে পণ্য সংগ্রহ করতেই দিনের বড় একটা সময় চলে যেত, এখন সেই সময়টা তিনি দোকানেই দিতে পারেন।

তার ভাষায়, “আগে মাল আনতেই দিনের অনেকটা সময় চলে যেত। এখন মোবাইলে অর্ডার করেই দোকানে থাকতে পারি। এতে দোকানও সামলানো যায়, আবার ক্রেতাদের দিকেও পুরো মনোযোগ দিতে পারি।”

দিনের চেহারাটাই বদলে গেছে

আগে বাজারে বাজারে ঘুরে যে সময়টা চলে যেত, এখন সেই সময়ে তিনি দোকানের কাজ আরও গুছিয়ে করতে পারেন। কোনো পণ্য শেষ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গেই অর্ডার করে দেন। আলাদা করে বাজারে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না।

এই বাড়তি সময়ে তিনি এখন ক্রেতাদের সঙ্গে বেশি কথা বলেন, তাদের চাহিদা বোঝার চেষ্টা করেন এবং দোকানে কোন পণ্য কোথায় রাখলে ক্রেতাদের জন্য সুবিধা হবে, সেদিকেও নজর দেন। দোকানটাকে আরও সুন্দরভাবে সাজানোর সুযোগও পাচ্ছেন।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে তার দৈনন্দিন জীবনে। পণ্য সংগ্রহের চাপ অনেকটাই কমে যাওয়ায় এখন ব্যবসার অন্যান্য দিক নিয়ে ভাবার সময় পাচ্ছেন। কোন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, কোন সময় ক্রেতা বেশি আসে কিংবা দোকানে নতুন কী রাখা যায়, এসব বিষয় নিয়ে পরিকল্পনা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পরিবারের সঙ্গেও আগের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় কাটাতে পারছেন। দিনের বড় একটা অংশ আর বাজারে ঘুরে কাটাতে হয় না।

সামনের দিনের স্বপ্ন

দোকানটা এখনো ছোট, কিন্তু তার স্বপ্ন অনেক বড়। ধীরে ধীরে আরও বেশি পণ্য রাখার ইচ্ছে আছে। ভবিষ্যতে সুযোগ হলে দোকানের পরিসর বাড়ানোর কথাও ভাবছেন।

যে মানুষটি ৩২ বছর অন্যের দোকানে কাজ করেছেন, আজ তিনি নিজের দোকানের মালিক। নিজের সিদ্ধান্তে ব্যবসা চালাচ্ছেন, নিজের পরিচয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।

বহু বছরের অভিজ্ঞতা তাকে এই পথ দেখিয়েছে, আর সেই পথটা আরও সহজ করেছে প্রিয়শপ। একসময় যে কাজটাই ছিল তার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা, আজ সেটাই অনেক সহজ হয়ে গেছে।

৩২ বছর ধরে তিনি অন্যের ব্যবসা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছেন। আজ তিনি নিজের স্বপ্ন গড়ছেন। আর প্রতিদিন সেই স্বপ্নকে একটু একটু করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তার অভিজ্ঞতা, পরিশ্রম এবং প্রিয়শপের নির্ভরযোগ্য সেবা।